ভাইরাল ছবিতে শিশুর ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য: নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন
ডিজিটাল ডেস্ক:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ছবি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় একটি শিশু উঁচু ভবনের বারান্দা থেকে ঝুলে আছে এবং একজন ব্যক্তি—ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির বাবা—আতঙ্কিতভাবে তাকে ধরার চেষ্টা করছেন। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ছবিটি বাস্তব ঘটনা নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি—এ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সত্যতা যাই হোক না কেন, ছবিটি শিশু নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভাইরাল হওয়ার পেছনের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কনটেন্ট ভাইরাল হওয়ার প্রধান উপাদান হলো আবেগ। আলোচিত ছবিটিতে ভয়, ঝুঁকি এবং বাবা–সন্তানের সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় এটি দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ডিজিটাল মিডিয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন দৃশ্য মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করে—শেয়ার, কমেন্ট কিংবা আবেগঘন মন্তব্যের মাধ্যমে।
বাস্তব না কৃত্রিম—তদন্তের প্রয়োজন
অনলাইন ব্যবহারকারীদের একটি অংশ দাবি করছেন, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে বাস্তব ঘটনার ছবি বলেও উল্লেখ করছেন।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা কর্তৃপক্ষ ছবিটির উৎস বা সত্যতা নিশ্চিত করেনি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে এআই-নির্মিত ছবি শনাক্ত করা সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ছবিটি ঘিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো শিশু নিরাপত্তা। নগর জীবনে উঁচু ভবনে বসবাস বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বারান্দা ও জানালার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ নয়।
শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মীরা বলছেন—
-
শিশুদের একা বারান্দায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ
-
উঁচু ভবনে সেফটি গ্রিল বা নেট থাকা জরুরি
-
অভিভাবকদের সামান্য অসতর্কতাও মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে
এই ভাইরাল ছবি সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও নৈতিক দায়
ছবিটি শেয়ার করার ক্ষেত্রে নৈতিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি শিশুর ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যকে ভাইরাল কনটেন্টে পরিণত করা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কনটেন্ট প্রকাশ ও শেয়ারের আগে এর সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।
উপসংহার
ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি সত্য হোক বা কৃত্রিম—এটি একটি সতর্কবার্তা।
শিশু নিরাপত্তা কোনো আলোচনার বিষয় নয়, এটি একটি মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাল কনটেন্টের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না যায়—সেদিকেই সবার নজর দেওয়া জরুরি।
